সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবার পরে – কিউবা বিশাল বিপদে পড়ে গিয়েছিল ।
কোল্ড ওয়ার এর সময়ে কিউবাকে দেয়া সোভিয়েত সাহায্য বন্ধ হয়ে যায় ।এই সাহায্যের মাঝে ছিল কৃষি যন্ত্রপাতি, সার, ট্রাক্টর । যে কারনে, যন্ত্র নির্ভর এবং কেমিকেল সার নির্ভর কিউবার কৃষি উতপাদন ব্যাপক হারে কমে যায় । প্রায় দুর্ভিক্ষের কাছাকাছি অবস্থা ।
একজন কিউবান বছরে ৩৬০০ (ইউনিট ভুলে গেছি) এর যায়গায় ১৩০০ ইউনিট খাবার গ্রহন করা শুরু করে । ঘাড় ত্যাড়া ফিদেল ক্যাস্ট্রো এই থেকে উত্তরনের জন্য ব্যাপকভাবে তাদের দেশের ইউনিভার্সিটির প্রতি সাহায্য এবং সহযোগিতা বাড়িয়ে দেন ।
এর ফলে, তারা কিছু পদক্ষেপ নেন ।আমেরিকা বা ধনতান্ত্রিক কৃষি ব্যবস্থায়, সবুজ বিপ্লব নামে একটি ধারনা ১৯৬০ সাল এর পর থেকে শুরু হয় । যেখানে মনোক্রপ ( জমিতে এক ফসল চাষ) ধারনা বৃদ্ধি পায় । হাইব্রিড সবজি, সবজি বীজ এর বাণিজ্যিকিকরন এর মাধমে এই ব্যাবসা চলে যায় মাল্টি ন্যালশনাল কোম্পানির হাতে । যা এখন আমাদের দেশেও শুরু হয়েছে ।
এভাবে, মনোক্রপের মাধমে, কৃষক এক ফাদে পড়ে যায় । যার কারনে, ইন্ডিয়ার কিছু প্রদেশ এ পাকিস্তানে কৃষক আত্নহত্যা করছে । সবুজ বিপ্লবের নামে এভাবে আমাদের সাস্টেইনেবল কৃষিকে ধ্বংস করা হয়েছে ।
গতকাল ঘাটাইলের গারো বাজারে ২০ টাকা মন করল্লা বিক্রি হয়েছে ।
এইটা মনোক্রপের ক্ষতিকর দিক । একই জমিতে মাল্টি ক্রপ করলে, কৃষক এক ফসলে ক্ষতিগ্রস্থ হলেও অন্য ফসল থেকে লাভবান হবেন । এর উতাপদন ব্রিদ্ধির দিকও আছে । এক ফসল আরেক ফসলকে, সমর্থন দেয় । যাহোক – কিউবা ।
কিউবান রা পুরনো কৃষির প্রতি ফিরে যায় । সার হিসাব তাদের নিজেদের জৈব সার উতপাদনের মনোযোগ দেয় । চাষের জন্য গরু ব্যাবহার করা শুরু করে । এবং তারা পলিকালচার এর দিকে গুরুত্ব দেয় । উদাহরন স্বরুপ, সীম জাতিয় ফসল যা মাটিতে নাট্রোজেন দেয়, তার পাশেই মাটি থেকে নাইট্রোজেন নেয় এমন ফসল পাশাপাশি চাষ শুরু করে । এছাড়াও, বসত বাড়িতে বাগান করার দিকে তারা মনোযোগ দেয় । এতে করে তাদের ফসল হয়ে ওঠে অর্গানিক, আত্ন নির্ভরশীল ।
মেশিনারিজ কেনা প্রয়োজন না থাকায় ফসল উতপাদন এর খরচ কমে আসে এবং, একটা সময়ে ফসলের উতপাদনও বেড়ে যায় ।
বর্তমানে, তারা ফসলে স্বয়ংসম্পুর্ন এবং তা অর্গানিক ।
৯০ দশকের আগে, আমাদের গ্রামের প্রতি বাড়িতেই লাউ, করল্লা বা এমন সব ফসল চাষ হত। আমাদের দেশে এখন মনোক্রপ করা হয়, রাসায়নিক সার এবং পুরোটাই রাসায়নিক কীটনাশক এর উপরে নির্ভরশীল ।
আগে যে ধানের জমি থেকে প্রতি বর্ষায় শেষে আমরা ২/৩ মন শুধু পুটি মাছ ধরতাম এখন সেখানে ২/৩ কেজি পাওয়া যায় না কীটনাশক এর কারনে । ১০০০ একরে বছরে ৫০ লাখ টাকার কীটনাশক বিক্রি হয় ।
কিউবার মডেল আমাদের জন্য অতি জরুরি ।